Image Alt

Blogs

Why Storytelling is a Must for Startups

আপনারা নিশ্চয় জাপানি বিনিয়োগকারী Masayoshi Son-এর নাম শুনেছেন। তিনি “Soft Bank” এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। Masayoshi Son একাধারে Alibaba, Yahoo, Snap Deal, PayTM এবং বড় বড় সফল প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন। ইন্ডিয়ান টাইমস এর এক সাংবাদিক একবার তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি বিনিয়োগ করার সময় কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তিনি বললেন, “জ্যাক মা’কে মিট করার আগে তিনি ২০ জনের কথা শুনেছেন। প্রত্যেকেই তাদের বিজনেস, ডাটা, ইনসাইট, রেভিনিউ মডেল, মানবসম্পদ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট দিয়েছে। শুধু জ্যাক মা গল্প বলেছে। তার স্বপ্ন, তার প্যাশন নিয়ে সে আমাকে গল্প শুনিয়েছে। কীভাবে সে তার দেশের ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসায়ীদের কানেক্ট করতে চায় সেটা সে ইমোশনালি বলেছে। আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার কাছে কোনো পাওয়ার পয়েন্ট ছিলনা। তার হাতে শুধু ছিল একটুকরা কাগজ। মাত্র পাঁচ মিনিট শোনার পর বললাম, এই যে চেক কত টাকা লাগবে বলো।” Masayoshi Son ইয়াহুর অন্যতম উদ্যোক্তা জেরি ইয়াং এর চোখে একটা স্মেল ফিল করতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন, “There was an animal smelling around his eyes”। এভাবেই দুনিয়ে বদলের সিদ্ধান্ত আসে। 

স্টার্ট আপের জন্য একজন উদ্যোক্তাকে প্রতিনিয়ত গল্প বলতে হয়। ক্রেতা, প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্যোক্তাকে গল্প বলতে হয়। কিন্তু উদ্যোক্তাতারা গল্প বলার বিষয়ে তেমন মনোযোগ দিতে চান না। একজন উদ্যোক্তা হয়তো অনেক প্যাশনেট, ডেডিকেটেড, পণ্য এবং মার্কেট সম্পর্কে অনেক ভাল ধারণা কিন্তু একটি জায়গায় তারা পিছিয়ে থাকেন। এটা হচ্ছে গল্প বলা। তারা ভাবেন একটা ওয়েবসাইট, এ্যাপস, ফেসবুক পেইজ দিয়েই সম্ভব। আসলে কি সম্ভব? একটা ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেইজ তখনই ভাল করবে যখন এখানে একটা ইমোশনাল গল্প বলা হবে। এই গল্প দিয়েই কিন্তু একজন উদ্যোক্তা তার বিনিয়োগকারী, তার ক্রেতা এবং কর্মীদের যার যার মত করে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কীভাবে গল্প বলা যেতে পারে? সব গল্পই আসলে emotional transportation। আমরা একজন মানুষকে পয়েন্ট এ থেকে পয়েন্ট বি তে যেতে চাই। পয়েন্ট এ হলো এখনকার অবস্থা। আর পয়েন্ট বি হচ্ছে যেখানে আমি আমার ক্রেতাকে নিয়ে যেতে চাই। পয়েন্ট এ হচ্ছে আপনার ফোনের প্রতিটি কলেই কল ড্রপ। অন্যদিকে পয়েন্ট বি হচ্ছে আপনার ফোনে কোনো কল ড্রপ নাই। এটা একটা স্বপ্নের মত বিষয় মনে হচ্ছে তাই না। আপনি আপনার সেই স্বপ্নের দুনিয়ার এমন একটা ছবি শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরবেন তারা যেন সবাই সে দুনিয়ার ভিসা চায়, সে দুনিয়ার নাগরিকত্ব চায়। একটি সুন্দর গল্পই পারে আপনার সাথে আপনার টার্গেট গ্রুপের ইমোশনাল সংযোগ ঘটাতে।

রিচার্ড ব্র্যাসন (Richard Branson) বলেন খামের উলটো দিকে যে ১০ শব্দের ভেতর তার বিষয়টা বলতে পারেনা তার সাথে আমি নাই। আপনার সামনে দুনিয়া বদলে দেবার মত একটা আইডিয়া আছে, দারুণ বিজনেস প্লান আছে, কিন্তু আপনি কাউকে কনভিন্স করতে পারছেন না। কারণ আপনি ইমোশনালি গল্পটা বলতে পারছেন না। নতুন একটা পৃথিবীর ছবি আঁকতে পারছেননা। আপনার ম্যাসেজে শুধু বড় বড় তথ্য-উপাত্ত।  লন্ডন স্কুল অব বিজনেস এর একটা গবেষণায় দেখা গেছে, “যখন শুধু তথ্য-পরিসংখ্যানের মাধ্যমে ম্যাসেজ দেয়া হয় তখন মানুষ এর মাত্র ৫-১০ শতাংশ মনে রাখতে পারে। আর তথ্য পরিসংখ্যানের সাথে যখন গল্প ঢুকিয়ে দেয়া হবে তখন মানুষ এর ২৫-৩০ শতাংশ মনে রাখতে পারে। অন্যদিকে শুধু গল্প দিয়ে ম্যাসেজ দেয়া হলে একজন মানুষ ম্যাসেজের ৬৫-৭০ শতাংশ মনে রাখতে পারে”।  ঠিক এই সুযোগটাই একজন উদ্যোক্তাকে কাজে লাগাতে হয়।  

একজন ইনভেসটর যখন বিনিয়োগ করেন তখন তিনি একটা বিশ্বাস থেকে বিনিয়োগ করে থাকে। তিনি  বিশ্বাস করেন মার্কেট বড় হচ্ছে, নতুন নতুন সুযোগ আসছে, তাই এখানে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। তখন তিনি একশন নেন। অর্থাৎ বিনিয়োগ করেন। তিনি পণ্যের কোয়ালিটি, পণ্যের দাম দেখেন না। তিনি অদৃশ্য একটা কিছু অনুভব করেন। এটাও একটা বিশ্বাস এবং গল্পের উপর নির্ভর করছে। আর এ বিশ্বাসটাই বিনিয়োগকারীকে একশনে যেতে সাহায্য করে। একজন বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করার আগে দুটি প্রশ্ন করে ১) Excite me about your business 2) Excite me about you। তাই আপনাকে অবশই স্টোরি বলতে হবে। শুধু ডাটা দিয়ে স্টোরি কখনই কাজে আসেনা। সে কারণে ডাটা এবং ফ্যাক্ট দিয়ে কীভাবে স্টোরি বলা যায় সেটা আমাদের জানতে হবে। এ প্রসঙ্গে Sandy Carter নামে আইবিএম এর এক মার্কেটিং একজিকিউটিভ বলেন, “Tell me a fact and I’ll learn. Tell me a truth and I’ll believe. But tell me a story and it will live in my heart forever.”